হাসপাতালের যে জায়গায় লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য জীবাণু

হাসপাতাল দেখতে যতটা পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত মনে হয়, তা কি আসলেই এত পরিষ্কার? একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালের বেডগুলো ঘিরে থাকা কার্টেইন বা পর্দা হলো হাসপাতালের সবচেয়ে নোংরা জায়গা। এগুলোয় থাকে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া। এসব পর্দা অন্তত প্রতি দুই সপ্তাহে একবার করে ধোয়া উচিত।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয় আমেরিকান জার্নাল অব ইনফেকশন কন্ট্রোলের সেপ্টেম্বর সংখ্যায়। হাসপাতালে যদিও চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীদের পরিবার-পরিজন নিয়মিত যাওয়া আসা করেন এবং এসব পর্দা ছুঁয়ে থাকেন, কিন্তু এসব পর্দা প্রায় কখনোই ধোয়া হয় না। আর এই পর্দা ধরার পর কেউ হাত ধোয়ার কথাও ভাবেন না। জীবাণু মাখা হাতেই তারা রোগীর সংস্পর্শে আসেন।

এর আগে কোনো গবেষণায় হাসপাতালের পর্দায় জীবাণু আছে কিনা তা দেখা হয়নি। এ গবেষণায় কানাডার উইনিপেগের একটি হাসপাতালের ১০টি পর্দা পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে সদ্য ধোয়া পর্দা পরীক্ষা করা হয়। এরপর তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন পর্দাগুলোয় জীবাণু আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়।

এ গবেষণার ফলাফল বেশ চিন্তিত হবার মতো। যত দিন যায়, এই পর্দায় জীবাণুর পরিমাণ তত বাড়তে থাকে। এমনকি ১৪ দিন নাগাদ এতে এমআরএসএ নামের একটি সুপারবাগের উপস্থিতিও পাওয়া যায়। এই জীবাণুটি অসুস্থ ও দুর্বল মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে।

তিন সপ্তাহ শেষ হবার পর ভয়াবহ রকমের নোংরা ও জীবাণুতে ভরপুর হয়ে পড়ে ওই পর্দাগুলো। গবেষকরা বলেন, এতে ক্রস কন্টামিনেশন হবার ভয় খুব বেশি অর্থাৎ এক রোগীর থেকে আরেক রোগীতে ছড়াতে পারে রোগ, কারণ সবাই বেখেয়ালেই এই পর্দা হাত দিয়ে ধরছেন বা পর্দা ঘেঁষে চলে যাচ্ছেন। ১৪ দিনের মাঝে জীবাণু যে পরিমাণে বেড়ে যায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় এ সময়েই পর্দা ধুয়ে ফেলা ভালো।

গবেষণায় দেখা যায়, শুধু পর্দাই নয়, অনেক সময়ে চিকিৎসক বা নার্সের স্ক্রাব বা অ্যাপ্রনেও এভাবে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই এসব কাপড় নিয়মিত ধোয়া জরুরী।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স