মৃত প্যারালাইজড ব্যক্তিও আসামি মামলায় নেই সংস্কারবাদীরা

<h1>মৃত প্যারালাইজড ব্যক্তিও আসামি মামলায় নেই সংস্কারবাদীরা</h1>

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় করা পুলিশের মামলা নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। দেড় বছর আগে মারা গেছেন, বছরখানেক ধরে প্যারালাইজড, বিদেশে অবস্থান করছেন কিংবা ঘটনার সময় এলাকাতেই ছিলেন না এমন অনেকেই আছেন এসব মামলার আসামির তালিকায়। অপরদিকে জেলার ৭টি থানায় এ পর্যন্ত করা ১৩টি মামলা থেকে রহস্যজনকভাবে রেহাই পেয়েছেন জেলা বিএনপির সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত অনেক শীর্ষ নেতা ও তাদের অনুসারীরা। বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের শীর্ষ নেতাদেরও মামলায় আসামি করা হয়নি বলে জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে সোনারগাঁ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেন। এ মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশের করা এ মামলার এজাহারে ৫নং আসামি করা হয়েছে দেড় বছর আগে মারা যাওয়া সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মজিবর রহমানকে। মজিবর রহমানের ছেলে শুভ জানান, ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর আমার বাবা মারা যান। অনেক আগের কমিটিতে রাজনীতি করেছেন। তিনি মৃত্যুর প্রায় ১ বছর আগে ব্রেন স্ট্রোক করে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। তাকে জড়িয়ে কেন মামলা হল আমরা কেউ বুঝতে পারছি না। একই মামলার ১১নং আসামি করা হয়েছে এক বছর ধরে প্যারালাইজড সোনারগাঁ থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফকে। মুঠোফোনে রউফ জানান, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ রাতে স্ট্রোক করে আমার এক সাইড প্যারালাইজড হয়ে যায়। আমার হাত ও পা কাজ করে না। সোনারগাঁ থানার অপর মামলায় আসামি করা হয়েছে কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীণ বিএনপি নেতা ফজলুল হক চেয়ারম্যানসহ তার ৬ ছেলেকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ বৃদ্ধ ফজলুল হক ও তার ছেলেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই জয়নাল আবেদীন খান বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ৩১ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করা হয়। এ মামলার ২নং আসামি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার জানান, মামলার এজাহারে ৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে ঘটনার সময় দেখানো হলেও ওইদিন আমি হাইকোর্টের অ্যানেক্স ৩৩ নম্বর কোর্টে একটি মামলার শুনানিতে ছিলাম। এই মামলার আসামিদের একজন মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রানা মুজিব গত ১০ জানুয়ারি হতে দক্ষিণ কোরিয়াতে আছেন বলে জানা গেছে। মামলার আরেক আসামি মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও বিএনপির মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজলের পরিবারের দাবি, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি বন্দর থানায় করা একটি মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা আবুল কাউসার আশা ওমরাহ পালনে সৌদি অবস্থান করছিলেন।

অপরদিকে রহস্যজনক কারণে পুলিশের করা এসব মামলা থেকে রেহাই পেয়ে গেছেন জেলা বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতাই। আড়াইহাজার থানায় করা মামলায় আসামির তালিকায় নেই সাবেক এমপি ও সংস্কারবাদী নেতা আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদরুজ্জামান খান খসরু ও তাদের অনুসারী নেতারা। ফতুল্লা থানায় করা ২ মামলার কোনোটিতেই নেই কল্যাণ পার্টির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলমের নাম। বন্দর থানায় ২টি মামলা করা হলেও সেখানে আসামি তালিকায় নেই বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, ২২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিয়া হোসেলসহ তার অনুসারীদের নাম। সোনারগাঁ থানার ৩ মামলার ১টিতে আসামি করা হয়েছে বিএনপির সংস্কারবাদীদের অন্যতম ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা হলেও সেখানে নেই সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিনের নাম।

মামলায় মৃত ও পঙ্গু ব্যক্তির নাম প্রসঙ্গে মামলাটির তদন্তকারী অফিসার সোনারগাঁ থানার তালতলা কেন্দ্রের পরিদর্শক সোয়েব খান জানান, যে এসআই বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন তাকে কেউ ভুল তথ্য দিয়ে মামলাটি করিয়েছেন কিনা তা তদন্ত করার সময় দেখা হবে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার তদন্তেই বের হয়ে আসবে কে দেশে আর কে বিদেশে ছিল। মামলায় জামায়াত-শিবিরের কাউকে আসামি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এজাহার দেখে বলতে হবে।

তথ্য সূত্রঃ যুগান্তর