গদখালীর ফুলের চাহিদা

<h1>গদখালীর ফুলের চাহিদা</h1>

যশোরের গদখালীর ফুলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দেশের মোট চাহিদার সিংহভাগ ফুল জোগান দেয় এ এলাকার ফুলচাষীরা। চলতি মাসে বসন্ত উৎসব, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে প্রায় ৩৫-৪০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্য নিয়েছেন এখানকার চাষীরা। চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত ফুল সরবরাহে ব্যস্ত সময় পার করছে এ অঞ্চলের চাষীরা। ফুলের বর্তমান বাজার দরে সন্তুষ্ট চাষীরা। তবে তাদের দাবি, ফুলের দাম আরও বাড়বে। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে ফুল সরবরাহ শুরু করেছে এ অঞ্চলের চাষীরা। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও গদখালীর চাষী আবদুর রহিম বলেন, পাঁচটি অনুষ্ঠান ঘিরে যশোর অঞ্চল থেকে ৬০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট ছিল। এর মধ্যে দুটি দিবস (১৪ ও ১৬ ডিসেম্বর) পার হয়েছে। এ মাসে তিন দিবসে ৪০-৪৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট নিয়েছেন চাষীরা। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফুলচাষীরা। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার গদখালী বাজারে গোলাপ সাড়ে পাঁচ টাকা পিস, জারবেরা ৮-১০ টাকা পিস, গ্লাডিওলাস ৩-৮ টাকা পর্যন্ত পিস, রজনীগন্ধা ৬ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও গাঁদা ফুল প্রতি হাজার পিস ১০০-১৫০ টাকা। বাজারদর স্থিতিশীল থাকলেও টার্গেট পূরণ হবে। তবে আশা করছি ফুলের দাম আরও বাড়বে। গদখালী এলাকার মাঠজুড়ে জারবেরা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদা ফুলের মেলা বসেছে। মাঠে মাঠে রং বেরঙের ফুল দোলা দিচ্ছে কৃষকের মনে। আসন্ন তিনটি উৎসব ঘিরে কৃষকরা আশায় বুক বেঁধেছেন। ফুল বাণিজ্যে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশাবাদী সবাই। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা বসন্ত, পরদিন ভালোবাসা দিবস। এ দুটি দিবসে প্রিয়জনের মন রাঙাতে মুখিয়ে আছেন দেশের তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সীরা। প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে ফুলই শ্রেষ্ঠ। মানুষের মনের খোরাক মেটাতে গদখালীতে চাষীরা এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ফুল দেরিতে ফোটাতে গোলাপের কুঁড়িতে পরিয়ে রাখছেন ‘ক্যাপ’। ফলে পহেলা বসন্ত, ভালোবাসা দিবস আর ২১ ফেব্রুয়ারিতে ফুল বাজারে দেয়া নিশ্চিত হবে। বিস্তৃীর্ণ মাঠজুড়ে নানা রঙের ফুলের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য কেবল মানুষের হƒদয়ে অনাবিল প্রশান্তিই আনে না, ফুল চাষ সমৃদ্ধিও এনেছে অনেকের জীবনে। ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপঙ্কর দাস বলেন, বিদায়ী ২০১৭ সালে শুধু গদখালী থেকে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হয়। এ বছর তা অতিক্রম করবে বলে আশা করছি। ফুল চাষকে লাভজনক করে তুলতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

তথ্য সূত্রঃ যুগান্তর