হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সোহরাব হোসেন হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন ও অপর ২৯ আসামিকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামিকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়। খালাস দেওয়া হয়েছে একজনকে। 

আজ বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি আতহার আলী ওরফে পরান বাবু ও যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ পাওয়া আবদুর রশিদকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া ২৯ আসামিকে ১৪৭ ধারায় দুই বছর এবং ১৪৮ ধারায় তিন বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। ওই দুই ধারায় তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৫ মাস করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। আদালত তার রায়ে বলেছেন, এই দণ্ড একটির পর অপরটি কার্যকর হবে। আসামিদের এই মামলার পূর্বেকার কারাবাস এই সাজা থেকে বাদ যাবে।

রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আসামিসহ ২৬ জন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আতহার আলী ওরফে পরান বাবু বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামের ইউসুফ তরফদারের ছেলে ।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন, সিদ্দিকুর রহমান, হান্নান, রবিউল শিকদার, রাজ্জাক শিকদার, বাবুল হাওলাদার, আবদুর রব শেখ, আবদুল করিম শেখ, খলিল শেখ, হাদিস গাজি, মোজাহার গাজি, আনোয়ার হাওলাদার, কালা বাবুল, দিপু ওরফে দিপংকর, আবদুল হাকিম, হেমায়েত, রফিকুল ইসলাম, আবদুর রব শিকদার, ফরহাদ হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আবদুল ওহাব, গোলাম ফারুক, বাবুল হাওলাদার, পিকলু সরদার, শুক ওরফে সুলতান, মাসুদ শেখ, তরিকুল ইসলাম, মোজাহার ওরফে মোতাহার গাজি, আসাদ শেখ ও আজাহার ওরফে মোজাহার তরফদার। তাদের সবার বাড়ি বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামে বলে জানা গেছে।

নিহত সোহরাব আলী শেখ বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার গাজিরহাট গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মামলার নথি থেকে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে ২০০১ সালের ১৮ জুন সকাল ১০টার দিকে পরান বাবু এবং ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল গাজিরহাট গ্রামের সোহরাব আলীর বাড়িতে যায়। একপর্যায়ে তাঁরা সোহরাবকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কহিনুর বেগম বাদী হয়ে ওই দিনই ২৬ জনেরে নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মোরেলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা হয়।

ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. রেজাউল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দেন। যাতে ৩৩ জনের অভিযুক্ত করা হয়। মামলা চলাকালে এক আসামি মারা গেছেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী এ কে আজাদ ফিরোজ টিপু বলেন, আসামিরা জানিয়েছেন তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবে।

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো