নেইমারকে বার্নাব্যুর রাজা চেনালেন রোনালদো

প্রথম গোলের পর রোনালদো। ছবি: রয়টার্স

এমন চাপে রোনালদো কি কখনো পড়েছেন?

প্রথমার্ধের অন্তিম মুহূর্ত। গোল থেকে ১২ গজ দূরে দাঁড়িয়ে। পেনাল্টি শট নেওয়ার আগে একবার অস্বস্তিতে মাথা ঝাড়া দিলেন, চোখও বন্ধ করলেন একবার। এই পেনাল্টি স্পটে এর আগেও অনেকবার এসেছেন। অধিকাংশই গোল বানিয়েছেন, মাঝে মাঝে দু-একটা হাতছাড়া করেছেন। পেনাল্টি নেওয়ার চাপে তো রোনালদোর এমন হওয়ার কথা নয়!

মুহূর্তটাই অন্যরকম ছিল । নিজেদের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ এরই মধ্যে পিছিয়ে পড়েছে। ভাগ্য হাত না বাড়ালে ব্যবধান এক না হয়ে দুইও হতে পারত। না, এমন চাপে কখনো পড়েননি রোনালদো। কিন্তু সে চাপ কাটিয়ে শট নিলেন। ওতেই হলো ইতিহাস, রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০ গোল হয়ে গেল রোনালদোর। প্রথম কোনো ফুটবলারের কোনো একক দলের হয়ে গোলের সেঞ্চুরি। চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের প্রথম সেঞ্চুরিয়ানেরই এ সম্মান প্রাপ্য ছিল।

দ্বিতীয় গোলের পর দর্শকে জাগাচ্ছেন রোনালদো।  ছবি: রয়টার্সম্যাচে চাপে ছিলেন আরও একজন, নেইমার। চারদিকে কানাঘুষা, রিয়ালে রোনালদোর জায়গাটা একদিন নেইমারই নেবেন। তবে আজ অন্তত যে অভ্যর্থনা পেয়েছেন নেইমার তাতে চিন্তাটা একটু পিছিয়ে যাবে। বল নেইমারের কাছে গেলেই দুয়ো দিয়েছে বার্নাব্যু। সে চাপেই কি না ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ডটা গেল নেইমারের কপালেই!

তবে নেইমারই প্রথম গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। ভেরাত্তির এক ট্যাকল থেকে বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। কিন্তু পা পিছলে পড়ে সে সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। পাল্টা আক্রমণে মার্সেলোর ক্রস খুঁজে পেয়েছিল রোনালদোকে। কিন্তু মুখ দিয়ে রোনালদোর শট মুখ ঠেকালেন পিএসজি গোলরক্ষক আলফন্সে আরিওলা।

৩৩ মিনিটে অবশ্য আর পিএসজিকে ঠেকানো যায়নি। রিয়ালকে আশা দেখিয়ে পিএসজিতে যাওয়া কিলিয়ান এমবাপ্পেই এর মূল চরিত্র। ডান প্রান্তে দারুণ এক দৌড়ের পর ক্রস করেছিলেন। সে ক্রস কাভানি ডামি দিলে এসে পড়ে নেইমারের পায়ে। কিন্তু নাচোর দারুণ ট্যাকলে শট নিতে পারেননি। পেছন থেকে আসা আদ্রিয়ান রাবিয়োতের শট অবশ্য ঠেকাতে পারেননি আগেই নিচু হয়ে যাওয়া কেইলর নাভাস। ৩৬ মিনিটে গোল শোধের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু বাঁ পায়ের শটটা অনেক ওপর দিয়ে গেছে। ৩৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতেন কাভানি। কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন কাসেমিরো।

দলকে নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার পর মার্সেলো।  ছবি: রয়টার্স৪৩ মিনিটে অবশেষে খেলায় যোগ দিলেন বেনজেমা। তাঁর শট অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছেন আরিওলা। সেখান থেকে পাওয়া কর্নারেই রিয়াল পেল পেনাল্টি। ক্রুসকে ফাউল করেছিলেন জিওভানি লো চেলসো। পেনাল্টি থেকে গোল খেলেও পিএসজি অন্তত স্বস্তি পেয়েছে, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়নি চেলসোকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা রিয়াল ভালো করলেও গোলের প্রথম ভালো সুযোগ পেয়েছে পিএসজি। ৪৯ মিনিটে নাভাস অসাধারণ এক সেভ না করলে এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যেত প্যারিসের দলটি। এরপর মাঠের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘটনাটি ছিল ৬৮ মিনিটে। ক্রস করতে গিয়ে রেফারির মুখে বল মেরে বসলেন নেইমার। কিছুক্ষণের জন্য খেলা থামাতে হলো। ৭২ মিনিটে আবারও এগিয়ে যেতে পারত পিএসজি। রিয়াল বক্সে সৃষ্ট জটলা থেকে শট নিয়েছিলেন কিমপেম্বে। রামোসের দারুণ ব্লক বাঁচিয়ে দেয় দলকে।

৭৮ মিনিটে এক সঙ্গে নামানো হলো লুকাস ভাসকেজ ও মার্কো এসেনসিওকে। উইং নির্ভর খেলার ফল এল ৮৩ মিনিটে। এসেনসিওর ক্রস ঠিকমতো আসেনি রোনালদোর পায়ে। কিন্তু আরিওলার হাতে লেগে বল পড়ে রোনালদোর সামনে। হাঁটু দিয়ে দারুণ এক গোল রোনালদোর (২-১)।

জিদানের মুখে হাসি ফোটাল তাঁর দল।  ছবি: রয়টার্সএসেনসিওর খেলা দেখানো শেষ হয়নি তখনো। মাত্র দুই মিনিট পরে স্প্যানিশ ম্যাজিশিয়ানের আরেকটি ক্রস খুঁজে নিল মার্সেলোকে। ব্যবধান বাড়াতে ভুল করেননি এই ফুলব্যাক। এর আগে অবশ্য তাঁর সঙ্গেই ওয়ান-টু-ওয়ান করেই সুযোগটা সৃষ্টি করেছেন এসেনসিও।

মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে খেলাটা কীভাবেই না বদলে দিলেন জিনেদিন জিদান!

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো