কাদাকনাথ মুরগি বদলে দিয়েছে শিরিনার জীবন

শিরিনা প্রায় আট-দশ বছর আগে পোল্ট্রি মুরগির খামার গড়ে তুলেছিলেন। এতে লাভের মুখ যেমন দেখছেন, পাশাপাশি লোকসানের পরিমাণও কম নয়। তার পোল্ট্রিতে এখনো লেয়ার, ব্রয়লার, টাইগার, টার্কিসহ নানা জাতের মুরগি রয়েছে।

সে হিসেবে মুরগি পালনে শিরিনার অভিজ্ঞতা কম নয়। নানা জাতের মুরগির খামার করেই তিনি সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন। এদিকে প্রায় দুই বছর আগে খোঁজ পান কালো রঙের কাদাকনাথ মুরগির। এই মুরগির খামারই এখন লাভজনক। আর তাই তো কাদাকনাথ মুরগি পালনে বদলে গেছে শিরিনার জীবন।

ভারতের মধ্য প্রদেশের ওষুধি গুণসম্পন্ন মুরগি হিসেবে পরিচিত ‘কাদাকনাথ’ এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে দামি মুরগির তালিকায় স্থান পেয়েছে। কালো রঙের ওই জাতের মুরগি কাদাকনাথের খামার এখন রাজশাহীর বাগমারায়। উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের গোয়ালকান্দি গ্রামের গৃহবধূ শিরিনা নিজ বাড়িতে ওই মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন স্বামী ও দুই ছেলে।

জানা যায়, এ জাতের মুরগির আদি নিবাস ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ। সেখানে এটাকে বলা হয় ‘আয়্যাম কেমানি’। ভারতের মধ্য প্রদেশে কাদাকনাথ ‘কালোমাসি’ বা ‘কড়কনাথ’ নামে পরিচিত। এ মুরগির হাড়, মাংস, জিব, নখ পর্যন্ত কুচকুচে কালো। খাদ্য তালিকায় এর মাংস সুস্বাদু, ওষুধি গুণসম্পন্ন ও দামি। এর ডিম ও বাচ্চা বিক্রি করেও বেশি লাভবান হওয়া যায়।

নারী উদ্যোক্তা শিরিনা জানান, এ জাতের মুরগির ডিম থেকে ২১ দিনে বাচ্চা জন্ম নেয়। তিনি নরসিংদী থেকে ৮শ’ টাকা করে ২২টি মুরগির বাচ্চা কিনে আনেন। নিজস্ব ইনকিউবেটরের মাধ্যমে বাচ্চা উৎপাদন করেন তিনি। এ ২২টি মুরগির ডিম থেকে এখন শিরিনার খামারে রয়েছে ২৫০টি বাচ্চা। প্রতি সপ্তাহে ৮০-১শ’টি নতুন বাচ্চা যোগ হচ্ছে।

শিরিনা জানান, গত ২ মাস যাবৎ তিনি বাচ্চা বিক্রি আরম্ভ করেছেন। ১ মাস বয়সি বাচ্চার দাম ৭-৮শ’ টাকা, দেড় মাস বাচ্চার দাম ১ হাজার টাকা, ২ মাসের বাচ্চার দাম ১২০০-১৫০০ টাকা। এ জাতের মুরগির খাবার খরচ খুবই কম। এর পুষ্টি উপাদান ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্য সব মুরগির চেয়ে বহুগুণে বেশি।

বর্তমান পোল্ট্রি শিল্পে মন্দা বিরাজ করলেও তিনি আশা করেন কাদাকনাথ পালনের মাধ্যমেই বেশি লাভবান হবেন। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এর প্রসার ব্যাপকভাবে বাড়াতে পারবেন। তার খামারে নতুন প্রজাতির মুরগি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মুরগি ও বাচ্চা কিনতে ০১৩০২৪৬৪৬৩১ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।